ফুটবল বিশ্ব আবারও প্রস্তুত হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের জন্য। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে FIFA World Cup 2026। এবার অংশ নিচ্ছে রেকর্ড ৪৮টি দল, অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ এবং কোটি কোটি দর্শকের নজর থাকবে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের ওপর।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফিফা বিশেষভাবে ২৬ জন সুপারস্টারের তালিকা প্রকাশ করেছে। এরা শুধু নিজ নিজ দেশের ভরসা নন, বরং বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অভিজ্ঞ কিংবদন্তি থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের বিস্ময়বালক—সবাই রয়েছেন এই তালিকায়।
১. Lionel Messi – শেষ বিশ্বকাপের মহাকাব্য?
বিশ্বকাপ মানেই মেসি। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পরও তিনি থামেননি। ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি ইতিহাসে অন্যতম বিরল কীর্তি গড়ছেন। কোটি সমর্থক অপেক্ষা করছেন, এটি কি তার শেষ বিশ্বকাপ হবে?
২. Cristiano Ronaldo – বয়স শুধু একটি সংখ্যা
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলস্কোরার এখনও পর্তুগালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ৪০-এর কোঠায় পৌঁছেও তার ক্ষুধা কমেনি। বিশ্বকাপ ট্রফি জেতার শেষ সুযোগ হতে পারে এটি।
৩. Kylian Mbappé – নতুন যুগের রাজা
অনেকের মতে বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান মুখই এমবাপ্পে। গতি, ফিনিশিং এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার ক্ষমতা তাকে সবচেয়ে ভয়ংকর খেলোয়াড়দের একজন বানিয়েছে।
৪. Erling Haaland – গোলমেশিন
নরওয়ের এই স্ট্রাইকার ইউরোপীয় ফুটবলে গোলের ঝড় তুলেছেন। বিশ্বকাপে তার প্রথম বড় মঞ্চে কী করেন, সেটি দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।
৫. Vinícius Júnior – ব্রাজিলের নতুন জাদুকর
ব্রাজিল সবসময়ই তারকা তৈরি করে। বর্তমানে সেই দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার ড্রিবলিং এবং বিস্ফোরক গতি প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।
৬. Mohamed Salah – আফ্রিকার আশা
মিশরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফুটবলার সালাহ এবার বিশ্বকাপে নিজের ছাপ রাখতে চান। তার নেতৃত্বে মিশর চমক দেখাতে পারে।
৭. Harry Kane – গোলের নির্ভরতা
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলদাতা। ইংল্যান্ড সমর্থকরা আশা করছেন, এবার হয়তো দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে।
৮. Jude Bellingham – মধ্যমাঠের ভবিষ্যৎ
মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বেলিংহ্যাম বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান মিডফিল্ডারদের একজন হয়ে উঠেছেন।
৯. Lamine Yamal – বিস্ময়বালক
স্পেনের তরুণ প্রতিভা ইতোমধ্যেই বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। অনেকেই তাকে আগামী দশকের সুপারস্টার হিসেবে দেখছেন।
১০. Pedri – স্পেনের মস্তিষ্ক
মধ্যমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণ করার অসাধারণ ক্ষমতা তাকে স্পেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। (FIFA)
১১. Neymar – অসমাপ্ত স্বপ্ন
চোট এবং বিতর্কের মাঝেও নেইমার ব্রাজিলের সবচেয়ে আলোচিত তারকা। বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি। (
১২. Bruno Fernandes
পর্তুগালের আক্রমণভাগের অন্যতম সৃজনশীল খেলোয়াড়। তার পাস এবং দূরপাল্লার শট ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
১৩. Kevin De Bruyne
বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের অন্যতম সেরা প্রতিনিধি। তার ভিশন ও পাসিং এখনও বিশ্বসেরা।
১৪. Luka Modrić
ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তি। বয়স বাড়লেও মাঠে তার প্রভাব এখনো অসাধারণ।
১৫. Federico Valverde
উরুগুয়ের ইঞ্জিন বলা হয় তাকে। আক্রমণ ও রক্ষণ দুই দিকেই সমান দক্ষ।
১৬. Luis Díaz
কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় তারকা। তার গতি এবং উইং প্লে যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে দিতে পারে।
১৭. Heung-min Son
এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকাদের একজন। দক্ষিণ কোরিয়ার আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু।
১৮. Florian Wirtz
জার্মানির নতুন প্রজন্মের নেতা। তার সৃজনশীলতা জার্মান আক্রমণের মূল শক্তি।
১৯. Christian Pulisic
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় তারকা। ঘরের মাঠে তিনি বিশাল চাপের মুখে থাকবেন।
২০. Riyad Mahrez
আলজেরিয়ার অধিনায়ক এবং অন্যতম সেরা উইঙ্গার। আফ্রিকান প্রতিনিধিদের মধ্যে তিনি অন্যতম আলোচিত নাম।
২১. Raphinha
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন তিনি। তার গতি এবং ফিনিশিং দলকে বাড়তি শক্তি দেয়।
২২. Enzo Fernández
২০২২ বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়দের একজন। এবার তিনি আরও পরিণত এবং গুরুত্বপূর্ণ।
২৩. Ousmane Dembélé
ফ্রান্সের আক্রমণে অপ্রত্যাশিত কিছু করার ক্ষমতা রাখেন। ম্যাচের গতি মুহূর্তেই বদলে দিতে পারেন।
২৪. Alphonso Davies
স্বাগতিক কানাডার সবচেয়ে বড় তারকা। তার গতি বিশ্বসেরা ডিফেন্ডারদেরও সমস্যায় ফেলে।
২৫. Sadio Mané
আফ্রিকার অন্যতম সফল খেলোয়াড়। সেনেগালের আক্রমণের প্রাণভোমরা তিনি।
২৬. Mohamed Kudus
ঘানার তরুণ সুপারস্টার। বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
কেন এই ২৬ সুপারস্টার এত গুরুত্বপূর্ণ?
ফিফার এই তালিকা শুধুমাত্র জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নয়। এতে এমন খেলোয়াড়দের রাখা হয়েছে যারা নিজেদের দেশকে বিশ্বকাপে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। অভিজ্ঞতা, প্রতিভা, বর্তমান ফর্ম এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব—সবকিছু বিবেচনা করেই এই তারকাদের নির্বাচন করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ ২০২৬: কিংবদন্তিদের শেষ অধ্যায়, নতুনদের শুরু
এই বিশ্বকাপ হয়তো মেসি, রোনালদো, মদ্রিচ কিংবা নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ। একই সঙ্গে ইয়ামাল, বেলিংহ্যাম, উইর্টজ কিংবা কুদুসদের জন্য এটি হতে পারে নতুন সাম্রাজ্যের সূচনা।
ফুটবল ইতিহাসে প্রতিটি বিশ্বকাপ নতুন নায়ক তৈরি করে। ২০২৬ বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম হবে না। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এই ২৬ সুপারস্টারের দিকে তাকিয়ে থাকবে পুরো পৃথিবী।
FIFA World Cup 2026 শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন হতে যাচ্ছে। ৪৮ দলের এই মহাযজ্ঞে কোটি কোটি দর্শকের চোখ থাকবে ২৬ জন সুপারস্টারের ওপর। কেউ শেষবারের মতো ইতিহাস লিখতে নামবেন, কেউ আবার প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পরিচয় দেবেন।
মেসির জাদু, রোনালদোর দৃঢ়তা, এমবাপ্পের গতি, হালান্ডের গোল, ভিনিসিয়ুসের ড্রিবলিং এবং ইয়ামালের বিস্ময়—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় উৎসব।
