ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে মাঠে নেমেছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। প্রীতি ম্যাচগুলোতে নিজেদের শক্তি যাচাই করে নিচ্ছে দলগুলো, আর সেখানেই দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দুই প্রতিনিধি কলম্বিয়া ও ইকুয়েডর।
বিশ্বকাপের আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে দুই দল। বিশেষ করে কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের পারফরম্যান্স তাদের সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। (Reuters)
জর্ডানের বিপক্ষে কলম্বিয়ার দাপুটে জয়
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে কলম্বিয়া ২-০ গোলের জয় পেয়েছে জর্ডানের বিপক্ষে। ম্যাচের নায়ক ছিলেন জোন আরিয়াস, যিনি দুই গোল করেই দলের জয় নিশ্চিত করেন।
পুরো ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েছে কলম্বিয়া। কোচ নেস্টর লরেঞ্জোর দল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে এবং প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ দেয়নি।
জয়ের পাশাপাশি আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো, দলটি কোনো বড় ধরনের ইনজুরির শিকার হয়নি। বিশ্বকাপের ঠিক আগে এটি কোচিং স্টাফের জন্য স্বস্তির খবর।
ইকুয়েডরের গোল উৎসব
অন্যদিকে ইকুয়েডরও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। গুয়াতেমালার বিপক্ষে ৩-০ গোলের সহজ জয় পেয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ম্যাচজুড়ে ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে।
বিশ্বকাপের আগে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় দলটির আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা কোচিং স্টাফকে আশাবাদী করে তুলেছে।
বিশ্বকাপের আগে ইতিবাচক বার্তা
প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল সবসময় চূড়ান্ত সূচক না হলেও দলগুলোর মানসিক প্রস্তুতি এবং কৌশলগত অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।
কলম্বিয়া ইতোমধ্যেই কোস্টারিকার বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছিল। এরপর জর্ডানকে হারিয়ে তারা টানা দুই প্রস্তুতি ম্যাচে জয় তুলে নিল।
ইকুয়েডরও শেষ ম্যাচে দাপট দেখিয়ে প্রমাণ করেছে যে তারা বিশ্বকাপে কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যান্য প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল
বিশ্বকাপের আগে আরও কয়েকটি বড় দল জয় পেয়েছে।
- আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে হারিয়েছে হন্ডুরাসকে।
- ব্রাজিল ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে মিশরকে।
- জার্মানি ২-১ গোলে জিতেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
- ইংল্যান্ড ১-০ গোলে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে।
- বেলজিয়াম ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে তিউনিসিয়াকে।
এসব ফলাফল দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিশ্বকাপ শুরুর আগে শীর্ষ দলগুলো নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেয়েছে।
বিশ্বকাপে নজর থাকবে কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের দিকে
দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো ঐতিহ্যগতভাবেই বিশ্বকাপে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। কলম্বিয়া ও ইকুয়েডর এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়।
কলম্বিয়ার অভিজ্ঞতা এবং ইকুয়েডরের তরুণ প্রতিভার সমন্বয় বিশ্বকাপে চমক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। প্রস্তুতি ম্যাচের সাম্প্রতিক ফলাফলও সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কলম্বিয়া ও ইকুয়েডর উভয়ই জয় পেয়েছে। এই ফলাফল শুধু আত্মবিশ্বাসই বাড়ায়নি, বরং তাদের সমর্থকদের মাঝেও নতুন আশা জাগিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই ফর্ম ধরে রাখতে পারে কি না দুই লাতিন শক্তি।
সিটিজিপ্রেস/
