কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রামু সরকারি কলেজ। ২০১৮ সালে এটিকে সরকারি করণ করা হয়। একই সাথে আত্তীকরণ বিধিমালা ২০১৮’ (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রজ্ঞাপন) কার্যকর হয়। কলেজটির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে চাকরিতে যোগদান করার এবং প্রভাষক হতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্র জানায়, প্রভাষক শহীদুল হক কাজল ২০০০ সালের ৩০ অক্টোবর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কলেজের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি ( বি.এম.টি) শাখায় প্রভাষক হিসেবে রামু কলেজে যোগদান করেন।
বি.এম.টি হলো এইচএসসি (ভোকোশনাল) সমমানের একটি দুই বছর মেয়াদী কারিগরি ও ব্যবসায় শিক্ষামূলক কোর্স।
কলেজ কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানায়, সহকারী অধ্যাপক শহীদুল হক কাজল নট্রামস (NOTRAMS)-এর কথিত জাল সনদ দিয়ে তথ্য গোপনের মাধ্যমে বি.এম.টি শাখায় প্রভাষক হিসেবে সে সময় নিয়োগ পান।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ২০১৬ সালের ৩০শে জুনের এক স্মারক অনুযায়ী, বিগত ২৮/০৬/২০১৫ তারিখ থেকে কলেজটিতে সরকারি করণের পূর্বে নতুন নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০১৮ সালে কলেজটি জাতীয়করণের সময় বিধি বহির্ভূতভাবে শিক্ষক শহীদুল হক কাজল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রভাষক হতে সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত হন! তা নিয়ে কলেজটিতে বেশ বিতর্ক রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কলেজ শিক্ষক জানিয়েছেন, সরকারি করণের সময় কলেজের ১৩ জন প্রভাষককে কলেজ কর্তৃপক্ষ সহকারী অধ্যাপক পদে প্রমোশনের জন্য সুপারিশ দিয়েছিল। সে তালিকায় অধ্যাপক শহীদুল হক কাজলের নামও ছিল।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা থাকায় ১২ জনের সহকারী অধ্যাপক পদে প্রমোশন হয় নি। শহীদুল হক কাজল একাই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক পদে প্রমোশন পান। বাকি ১২ জন হাইকোর্টে মামলা করেন। যা এখনও চলমান।
কলেজ সূত্র জানায়, রামু সরকারি কলেজে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে কম্পিউটার ট্রেড শাখায় ৫জন শিক্ষক রয়েছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে কলেজ সরকারি করণের সময় শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের বিভিন্ন টিম কলেজের প্রত্যেক শিক্ষকের মূল নিয়োগপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সার্টিফিকেটের সত্যতা যাচাইকালে শহীদুল হক কাজলের নট্রামস (NOTRAMS)-এর সনদটি জাল বলে চিহিৃত করেন। সাধারণ কলেজের শিক্ষকরা মাউশির অধীনে থাকলেও কারিগরি শাখার ফাইলগুলো আত্তীকরণের সময় কিছুটা আলাদাভাবে যাচাই হওয়ার সুবাদে শিক্ষক কাজল নিজের দুর্বলতা অর্থের বিনিময়ে ধামা চাপা দেন।
এক শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে সম্প্রতি কলেজে পদোন্নতি ও বিভাগীয় প্রধানের পদ দখল করার পর শিক্ষক শহীদুল হক কাজলের জালিয়াতির ঘটনা ফের প্রকাশ্যে আলোচনায় এসেছে।
মাউশি-র সূত্র জানায়, বেসরকারি বা এমপিওভুক্ত বি.এম.টি শাখার শিক্ষকদের এমপিও বা পদোন্নতি নিয়ন্ত্রণ করে সরাসরি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর । কলেজটি সরকারি হওয়ার পর পদোন্নতি নিয়ন্ত্রিত হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশি-র আত্তীকরণ বিধিমালা দ্বারা।
সূত্র জানায়, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কোনো শিক্ষক স্কেল বা পদোন্নতি পেলেও, মূল সনদ (নট্রামস) যদি জাল প্রমাণিত হয়, তবে উক্ত শিক্ষকের প্রভাষক পদ এবং সহকারী অধ্যাপক পদ—দুটিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নট্রামস’ পরবর্তীতে জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী (নেকটার) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কম্পিউটার বিজ্ঞান বা আইসিটি বিষয়ে ডিগ্রি (যেমন: সিএসই বা আইটি) না থাকলে, এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত সার্টিফিকেটকে দেশের যেকোনো সরকারি-বেসরকারি স্তরে বৈধ আইসিটি শিক্ষকতার যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দুদক সূত্র আরও জানায়, বেসরকারি কলেজ যখন সরকারি হয়, তখন আত্তীকরণ বিধিমালা (যেমন: সরকারি কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা) অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষকের মূল নিয়োগপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সার্টিফিকেটের সত্যতা যাচাই বা ভেরিফিকেশন করা হয়। জালিয়াতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সরকারি বেতন-ভাতা ( এমপিওভুক্ত) পাবার যোগ্যতা হারাবেন এবং চাকরিচ্যুতি ও বিচারের মুখোমুখি হবেন।
সিটিজিনিউজ/




